আজমিরীগঞ্জে নদীর তীর থেকেই বালু উত্তোলনের অভিযোগ
নদীভাঙন রোধে ৩২৫ কোটি টাকার প্রকল্প, তবুও চলছে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন
জমশেদ হাসান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নদীভাঙন রোধে সরকার যখন শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, ঠিক তখনই কালনী-কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীরের কাছাকাছি এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা আবার নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জে নদীভাঙন ঠেকাতে এবং নদীর তীর, বসতবাড়ি, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন অংশে জিও ব্যাগ ও কংক্রিটের ব্লক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বালু সংগ্রহের ক্ষেত্রে কালনী-কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের কালনী-কুশিয়ারা নদীতে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের তুলনায় রাতের বেলায় এসব ড্রেজার বেশি সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ তাদের। বালু উত্তোলনের পর রাতের আঁধারে নৌযানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পরে ওই বালু বদলপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, যেসব এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে নদীর স্বাভাবিক গঠন ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভবিষ্যতে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয়রা বলেন, একদিকে নদীভাঙন ঠেকাতে সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে সেই নদী থেকেই যদি অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী জানান, “এ বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

