Thursday, 17 September 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নারে বহিরাগত দিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা, রোগীপ্রতি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নারে বহিরাগত দিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা, রোগীপ্রতি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

জমশেদ হাসান: আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) কর্নারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সুগার পরীক্ষার নামে ৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীদের সুগার পরীক্ষা করাতে যক্ষ্মা কর্নারে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মী নন এমন এক ব্যক্তিকে দিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানোর পর যক্ষ্মা বিভাগের পিএলসিএ মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক মেশিনে সুগার পরীক্ষা করছেন। এরপর রোগীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এনসিডি কর্নারে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের সুগার পরীক্ষা করানোর জন্য যক্ষ্মা কর্নারে যেতে বলা হয়। সেখানে বাদল নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি রক্তচাপ পরীক্ষা করেন। পরে পিএলসিএ আব্দুল্লাহ আল ফারুক মেশিনের মাধ্যমে সুগার পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে রোগীদের একটি স্লিপ দেওয়া হয়। ওই স্লিপ দেখিয়ে পরে এনসিডি কর্নার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করেন তারা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এনসিডি কর্নারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এসব রোগীকে বিনামূল্যে এক মাসের ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই সেবার আওতাভুক্ত রোগীদেরই সুগার পরীক্ষা করানোর জন্য যক্ষ্মা কর্নারে পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ নিতে তাদের প্রতি মাসে হাসপাতালে আসতে হয়। হাসপাতালে আসার পর রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করানোর জন্য তাদের যক্ষ্মা কর্নারে যেতে বলা হয়। সেখানে সুগার পরীক্ষা করাতে ৫০ টাকা করে দিতে হয়।

একজন সেবাগ্রহীতা বলেন, প্রতি মাসে ওষুধ নিতে হাসপাতালে আসেন তিনি। সুগার পরীক্ষা করানোর জন্য তাকে যক্ষ্মা কর্নারে যেতে বলা হয়। সেখানে ৫০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর একটি স্লিপ দেওয়া হয়। পরে ওই স্লিপ দেখিয়ে ওষুধ নেন তিনি।

আরেকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে এসে পরীক্ষার জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। তবে এই টাকা সরকারি কোনো ফি কি না, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয় না।

এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তা জানান, মেশিনের মাধ্যমে করা এ ধরনের পরীক্ষা সব সময় নির্ভুল ফল নাও দিতে পারে। ফলে ব্যবহৃত মেশিনের মান, পরীক্ষার পদ্ধতি ও ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষার জন্য নিজস্ব ল্যাবরেটরি থাকা সত্ত্বেও এনসিডি কর্নারের রোগীদের যক্ষ্মা কর্নারে পাঠিয়ে মেশিনের মাধ্যমে সুগার পরীক্ষা করানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাদল নামে যে ব্যক্তি রোগীদের রক্তচাপ পরীক্ষা করছেন, তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নন বলেও জানা গেছে। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে বহিরাগত কাউকে দিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করানোর অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যক্ষ্মা কর্নারের পিএলসিএ মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, রোগীরা আমার কাছে আসে, তাই করা হয়। রোগীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে এভাবে পরীক্ষা করানো ব্যক্তিগতভাবে ‘সাইড বাণিজ্য’ হিসেবে করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুল করেছি, আর হবে না।

এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
17 September 2026

আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নারে বহিরাগত দিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা, রোগীপ্রতি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন