সমবায় কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের ৬ কোটি টাকার ফ্লাট ৪ কোটি টাকার জমি
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাবেক এবং বর্তমানে তারাকান্দা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দীর্ঘদিন একই স্থানে অবস্থান, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় সাত বছর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ গড়ে তোলেন। বিশেষ করে তৎকালীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বদলি ও প্রশাসনিক বিষয়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন এবং কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ও সম্পর্ক তৈরি করে ভালো পোস্টিং নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, সদরে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মো. কামরুজ্জামান ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। লিখিত তথ্য মতে, নগরীর কালিঝুলি গোলাপজান রোড এলাকার স্বপ্ন টাওয়ারের ১৪ তলা ভবনে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট এবং মাসকান্দা এলাকায় আনুমানিক চার কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় আরও কয়েক কোটি টাকার জমি, বেনামী সম্পদ, আর্থিক লেনদেন এবং যৌথ বিনিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আবেদনকারী লিখিত অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দাবি। এজন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরির রেকর্ড পর্যালোচনা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংগ্রহ, অর্থের বৈধ উৎস অনুসন্ধান এবং ব্যাংক হিসাব আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করার আর্জি জানানো হয়েছে।
এদিকে সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমবায় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে কোনো অফিশিয়াল অভিযোগ নেই। তবে বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনিক তদবিরের জন্য তার মামার বন্ধু ও বগুড়া জেলা বিএনপির এক নেতার সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

