Monday, 12 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

টাকা দিলেই মিলে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, নারায়ণগঞ্জে তিতাসের কর্মকর্তা আজাদ সহ তার ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অধীনে কোটির টাকার চোরাই লাইন

টাকা দিলেই মিলে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, নারায়ণগঞ্জে তিতাসের কর্মকর্তা আজাদ সহ তার ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অধীনে কোটির টাকার চোরাই লাইন

 স্টাফ রিপোর্টারঃ

নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসে যেন টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। অনিয়ম ও ঘুষের বিনিময়ে মিলছে একের পর এক অবৈধ গ্যাস সংযোগ। আর এই চোরাই লাইনের সুবাদে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছেন তিতাস কর্মকর্তা ও একশ্রেণীর অসাধু ঠিকাদার। শিল্পপণ্য উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ রি-রোলিং স্টিল মিল, ডায়িং ফ্যাক্টরি এবং বহু আবাসিক বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। তিতাসের জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এই অবৈধ সংযোগের কারবার অবাধে চলছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

আইন অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অথচ গত এক দশকে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের অধীনে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ লাইন। একটি বাণিজ্যিক বা কারখানা সংযোগের জন্য গ্রাহককে গুনতে হয় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে আবাসিক বহুতল ভবনে সংযোগের জন্য নেওয়া হয় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে আদায় করা হয় নিয়মিত মাসিক বিল। স্বাভাবিক বিলের চেয়ে কিছুটা কম সুবিধা পাওয়ার লোভে স্থানীয় গ্রাহকরাও এই অর্থ তুলে দিচ্ছেন সিন্ডিকেটের হাতে।

তিতাসের স্থানীয় অফিস, অসাধু কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে এসব অবৈধ লাইন টানা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরানো একটি বৈধ রাইজার থেকে কৌশলে পুরো বহুতল ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের লাইন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব সংযোগ টিকিয়ে রাখতে ও মাসিক বিল আদায় করতে মাঠে সক্রিয় থাকে ঠিকাদার চক্র। সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ সোজা চলে যায় জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদের পকেটে। তার নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জের তিতাস গ্যাস এক বিশাল ঘুষ ও ভাগবাটোয়ারার দুর্গে পরিণত হয়েছে।

অভিযান ও শাস্তির নামে তিতাসের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড মূলত লোকদেখানো নাটকে রূপ নিয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো টিম আসার আগেই স্থানীয় ঘুষখোর কর্মকর্তারা সতর্ক করে দেন নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া গ্রাহকদের। অভিযানে কেবল তারাই শিকার হন, যারা সময়মতো অবৈধ বিল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০০ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও জরিমানা করা হয় মাত্র ৯২ হাজার টাকা। এমন নগণ্য জরিমানা ও নামমাত্র শাস্তির কারণে দুষ্কৃতকারীরা থেকে যাচ্ছে একেবারেই বেপরোয়া। কিছুদিন পর আবার লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ঠিক হয়ে যায় বিচ্ছিন্ন হওয়া লাইনগুলো।

 

সরকারি সম্পদের এই অপচয় ও প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না থাকায় সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদ এবং তার সহযোগী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তা না হলে এই সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয় রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

এব্যাপারে জোনাল বিক্রয় অফিস-নারায়ণগঞ্জ এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, কিসের তথ্য, এমন কোন ইয়ে নাই, অবৈধ লাইন আছে, আমরা কাটতেছি।

 

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
11 October 2026

টাকা দিলেই মিলে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, নারায়ণগঞ্জে তিতাসের কর্মকর্তা আজাদ সহ তার ঠিকাদার সিন্ডিকেটের অধীনে কোটির টাকার চোরাই লাইন

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন