কাস্টমস কর্মকর্তা শারমিনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে স্বামী নিয়ে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ সহ অর্থ পাচারের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শারমিন হেলাল ও তার স্বামী মো. মাহমুদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং সরকারি নিয়ম অমান্য করে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে। চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসার পর ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সরকারি আদেশ (জিও) বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ না করেই শারমিন হেলাল একাধিকবার বিদেশে যান। তিনি দুটি পৃথক পাসপোর্ট (নম্বর : বিপি০৮৬৭০ ও বিও ০১৪২১) ব্যবহার করে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত চারবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর, ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে থাইল্যান্ড সফর এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া সফর। অনুমোদনে অনীহা ও একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহারে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের স্পষ্ট আলামত রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দুর্নীতি ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলায় তাদের নামে ও বেনামে প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। নিজেদের আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করায় তাদের ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পত্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আবেদন জানানো হয়েছে।
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশে গমন ও কর্মস্থল ত্যাগ করা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত বা চাকরি থেকে স্থায়ী অপসারণের শাস্তিমূলক বিধান রয়েছে। তবে সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

