Friday, 2 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

দাদাবাবুর এক ব্যাংকেই ৫১ কোটি টাকার অবৈধ আমানত

দাদাবাবুর এক ব্যাংকেই ৫১ কোটি টাকার অবৈধ আমানত

খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার ও তার পরিবারের নামে বেনামে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

স্টাফ রিপোর্টারঃ

খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়ের বিরুদ্ধে চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা ২০১৭ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকেই তার এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো মিল না থাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরিজীবনে সুকুমার রায়ের মোট বেতন-ভাতা এবং পেনশন মিলিয়ে আয় ছিল সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা। অথচ শুধু সোনালী ব্যাংকের একটি শাখাতেই তার নামে ৫১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, নিজ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা পাওয়া গেছে। তার আয়কর নথিতে এসব সম্পদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ না থাকায় দুর্নীতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালীন ওএমএস বা খোলা বাজার বিক্রয় কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন সুকুমার রায়। এই প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি মূলত এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন। বর্তমান সময়েও তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।

‘আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে, পারলে আমাকে কিছু করে দেখান।’

পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পত্তির সাম্রাজ্য। নিজেকে গৃহিণী দাবি করা সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোসের নামে ব্যাংকে রয়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর। পাশাপাশি বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র এবং নিজ নামে একাধিক বাড়ি ও জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস বা আয়কর নথিতে কোনো তথ্য না থাকলেও তিনি বাবার বাড়ির সম্পত্তির কথা বলে বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

বড় ছেলে সৌমেন রায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অংকের টাকা স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখানো হয়নি। এমনকি তার মৃত দাদার নামেও বেনামে সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, যার প্রকৃত উৎস ছিল এই কর্মকর্তার অবৈধ আয়। পরিবারের সবার নামেই সম্পদ গড়ে তোলার এই চিত্র দুর্নীতিকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুকুমার রায় কোনো সদুত্তর না দিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। তার দাবি অনুযায়ী তার আরও বহু সম্পদ রয়েছে এবং কেউ তার কিছু করতে পারবে না। অন্যদিকে তার স্ত্রীও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এই ধরনের আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দুদক থেকে জানানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্য আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেও ট্যাক্স ফাইলে গোপন করা এই সমস্ত অবৈধ সম্পদের বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
01 October 2026

দাদাবাবুর এক ব্যাংকেই ৫১ কোটি টাকার অবৈধ আমানত

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন