Wednesday, 7 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ কমিশন বাণিজ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ কমিশন বাণিজ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় কয়েকজন দলিল লেখক, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, দলিলের ধরন ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকদের অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকজন দলিল লেখকের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি ফি পরিশোধ করার পরও নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা চাওয়া হয়। সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধনে বিলম্ব, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে তাদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাজমুল হাসানের অতীত কর্মস্থল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। কিছু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়ার কথাও বলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত, নিষ্পত্তি কিংবা কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর পাশাপাশি তার সম্পদের পরিমাণ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৪ বছরের চাকরিজীবনে তার বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামেও বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে জমি থাকার তথ্যের পাশাপাশি মাছের ঘের, আবাসিক ফ্ল্যাট এবং নির্মাণাধীন ভবনে বিনিয়োগের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বৈধতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগকারীদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘোষিত আয়, চাকরিজীবনের বৈধ উপার্জন এবং তার বর্তমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, নিবন্ধন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, অতীতে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে। কয়েকটি দলিল নম্বরের উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোর নিবন্ধনে রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।

মো. নাজমুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবা নিয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করে। তাই অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

নবাবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে নথিপত্র, দলিল নিবন্ধনের তথ্য, রাজস্ব আদায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদের তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র এবং সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
06 October 2026

সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ কমিশন বাণিজ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন