কেরানীগঞ্জে বুয়েট কর্মকর্তা কামরুল-হুমায়নের ৩ কোটি টাকার জমি
আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ থানাধীন নাইয়াটোলা মৌজায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুই কর্মকর্তার প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের জমি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জমিটির পরিমাণ ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা হলেন বুয়েটের পিএস টু ভিসি মো. কামরুল হাসান এবং সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ন কবীর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নাইয়াটোলা মৌজায় থাকা ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই জমি কেনার সময়কার মূল্য, ক্রয়ের উৎস এবং বর্তমানে এর প্রকৃত বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সরকারি চাকরিতে কর্মরত একজন কর্মকর্তার নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তা থেকে পারিবারিক ব্যয় মেটানোর পর বড় অঙ্কের সম্পদ গড়ে তোলা কতটা সম্ভব, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় চাকরি করলেও বেতন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট সম্পদের উৎস যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের ক্ষেত্রেই বেতনের তুলনায় অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী, তা যথাযথভাবে যাচাই না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন থেকেই যায়।
স্থানীয়রা বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদের পাহাড় প্রতিনিয়তই প্রকাশ পাচ্ছে। এরা কিভাবে কোটি কোটি টাকা সম্পদ গড়ে তুলে তা নিয়ে রাষ্টের কোন মাথা ব্যথা নেই। দুর্নীতির আইনে এদের কোন বিচার হয় না। একারনে যে যেভাবে পারছে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে।
স্খানীয়দের দাবী, কামরুল হাসান ও হুমায়ন কবীরের ক্ষেত্রে নাইয়াটোলা মৌজার ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি কীভাবে অর্জিত হয়েছে, এর অর্থের উৎস কী এবং সম্পদ অর্জনের সঙ্গে তাঁদের বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের দাবি রাখে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

