যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে উপপরিচালক রোকন উদ্দিন সীমাহীন লুটপাটের তদন্ত প্রতিবেদন গায়েব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’তে প্রায় ২৯২ কোটি ১১ লাখ ৫১২ টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগের তদন্তে তৈরি ১৭৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনটি দাখিলের প্রমাণপত্র, সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য-উপাত্তসহ ভোলায় কর্মরত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রোকন উদ্দিন ভূঞাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখা থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা জরুরি চিঠিতে তাকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৫৩৬ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান সংক্রান্ত মূল চিঠি, মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের রিসিটের মূল কপি, তদন্ত প্রতিবেদনের কপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল সার্ভিসে ২৯২ কোটি টাকা দুর্নীতি-অপচয়: ১৭৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন গায়েব!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ এবং এসব বিষয়ে পরিচালিত তদন্তের ১৭৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৯২ কোটি ১১ লাখ ৫১২ টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রোকন উদ্দিন ভূঞাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরেজমিন তদন্ত শেষে রোকন উদ্দিন ভূঞা ২০২৫ সালের ২৩ জুন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে ১৭৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে প্রতিবেদনের দাখিলের প্রমাণপত্র এবং বর্তমানে নথিটির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাকে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনটি আদৌ মন্ত্রণালয়ে দাখিল হয়েছিল কি না, দাখিল হয়ে থাকলে বর্তমানে সেটি কোথায় রয়েছে এবং নথি সংরক্ষণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় সামনে এসেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা এবং এ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোরও যাচাই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের বিষয়টিও রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটির বর্তমান অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

