যশোর বিআরটিএর এডি জমিরের বিরুদ্ধে দূর্ণীতির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জাল-জালিয়াতির কৌশল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিআরটিএ যশোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেনের পদোন্নতি ও অতীত অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি ওই তদন্তের প্রতিবেদন, অফিস আদেশ কিংবা স্মারক নম্বর প্রকাশ করেননি।
জমির হোসেনের দাবি অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করেছে, তদন্তের সময়কাল কী ছিল এবং প্রতিবেদনে কী সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশের তারিখ ও স্মারক নম্বরও উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোর ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ড পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে দালাল আটক ও কারাদণ্ডের তথ্য এবং ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে জমির হোসেনের সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি আদেশের স্মারক নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পাল্টা বক্তব্যে এসব নির্দিষ্ট বিষয়ের বিষয়ে কোনো নথি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সরকারি নথিতে তাঁর নাম মোহাম্মদ জমির হোসেন এবং পরিচিতি নম্বর ২০১৪২০০০১৫ বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে পাল্টা প্রতিবেদনে তাঁকে মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার নামে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে সরকারি নথিতে তাঁর নামের বিষয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমান যশোর ও এর আগে সাতক্ষীরা সার্কেলে দায়িত্ব পালনের সময় সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোকেও তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের জবাবে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, হলে কোন আদেশে এবং কী সিদ্ধান্তে; সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ কবে জারি হয়েছে; বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে কোন বিধিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং পদোন্নতি কমিটির সিদ্ধান্ত ও কার্যবিবরণী কী।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জমির হোসেনের দাবির সমর্থনে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা অফিস আদেশ গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া গেলে তা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

