লিফট বন্ধ করে ৪৫ পরিবারের ভোগান্তি , মুগদায় ভবন কমিটির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।
নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজধানীর মুগদা থানাধীন উত্তর মানিকনগর শান্তিধারা সোসাইটি রোডের ৫৮/ডি নম্বর ১০ তলা ভবনে লিফট বন্ধ করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪৫টি পরিবারের বাসিন্দারা। ভবন পরিচালনা কমিটির অভ্যন্তরীণ আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লিফট বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ভবনটির লিফট বন্ধ থাকায় ১০ তলা ভবনের বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফট বন্ধের বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ভবন কমিটির সদস্যদের কাছে অনুরোধ করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেননি। এমনকি কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি নিচে এসে লিফট চালু করে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতেও সাড়া দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কমিটির অভ্যন্তরীণ কোনো আর্থিক বা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সেই বিরোধের কারণে একটি পুরো ভবনের বাসিন্দাদের জিম্মি করে লিফট বন্ধ রাখা কতটা যৌক্তিক—তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
একাধিক বাসিন্দা বলেন, লিফট একটি ১০ তলা ভবনের বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীদের জন্য এটি অপরিহার্য। কমিটির কোনো বিরোধ বা আর্থিক সমস্যা থাকলেও তার প্রভাব সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কমিটির নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকলে তারা বসে আলোচনা করে সমাধান করতে পারেন। কিন্তু লিফট বন্ধ করে ৪৫টি পরিবারের মানুষকে কষ্ট দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগেও নানা অসন্তোষ ছিল। এবার লিফট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এদিকে, দ্রুত লিফট চালু করা না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভবনের এক বাসিন্দা। তার দাবি, দীর্ঘ সময় লিফট বন্ধ থাকায় কোনো অসুস্থ বা জরুরি রোগী সঠিক সময়ে ভবন থেকে বের হতে না পারলে তার দায়ভার কে নেবে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তবে লিফট বন্ধ রাখার কারণ এবং বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়ে ভবন পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। বিস্তারিত আসছে খুব শিগগিরই।

