Wednesday, 7 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে নোটিশ বানিজ্যের অভিযোগ : পুরান ঢাকায় বাড়ছে ঝুকিপূর্ন বহুতল ভবনের সংখ্যা

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে নোটিশ বানিজ্যের অভিযোগ : পুরান ঢাকায় বাড়ছে ঝুকিপূর্ন বহুতল ভবনের সংখ্যা

আনিসুর রহমানঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়ম, নকশা পরিবর্তন এবং অনুমোদন না মেনে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জোন ৭/১-এর ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের নামও উঠে এসেছে। ভবন মালিক ও ডেভেলপারদের একটি অংশের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখিয়ে নোটিশ দেওয়ার পর উচ্ছেদ বা কাজ বন্ধের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও শ্যামপুর থানার বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনের সময় নানা ধরনের ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। এরপর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা নোটিশ দেওয়ার পর পুনরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সরাসরি অথবা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবন ঘিরে নকশা পরিবর্তন, রাস্তার প্রস্থ সংক্রান্ত বিধি না মানা, প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা না রাখা এবং আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো স্থানে অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজউকের নোটিশ জারির পরও পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গেন্ডারিয়ার সতিশ সরকার রোডের ৩৩/১৩/এ নম্বর ভবন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, বৈধ নকশা অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি নির্ধারিত খোলা জায়গা রাখা এবং নির্মাণস্থলে অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনের নিয়মও যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

দোলাইখালের ৯০ নাসির উদ্দিন সরদার লেনের একটি ভবন নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাজ রাজউকের নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, অনুমোদিত নকশা রয়েছে কি না এবং বাস্তব নির্মাণের সঙ্গে নকশার মিল আছে কি না, তা সরেজমিন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

সতিশ সরকার রোডের ৩০/কে নম্বরের হাজী আব্দুল কাদের মোল্লা টাওয়ার এবং ডিস্টিলারি রোডের ৮৮/এ/২ নম্বর ভবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থানে অত্যন্ত সরু রাস্তার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ এবং অনুমোদিত নকশা না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। গেন্ডারিয়ার ৪৬ রজনী চৌধুরী রোডসহ আরও কয়েকটি স্থাপনাতেও নির্মাণবিধি না মানার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৫০ এস কে দাস রোড, ফরাসগঞ্জ, দ্বীননাথ সেন রোড এবং মীরহাজীবাগের কয়েকটি ভবন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমতি, রাজউকের নোটিশ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

এক ভবন মালিকের অভিযোগ, ভবনের ত্রুটি দেখিয়ে এবং উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি আল নাঈম মুরাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অনুমোদনবিহীন স্থাপনা ও পুরনো কাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়ে অফিসে আলোচনা করার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে ওই এলাকার দায়িত্বে নেই বলেও জানান।

এদিকে নয়াবাজারের ৩০ জিন্দাবাদ প্রথম লেনের নির্মাণাধীন ভবনটিও এখন বিশেষ নজরে এসেছে। ভবনটির রাজউক অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমতি রয়েছে কি না এবং বাস্তবে নির্মাণকাজ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা সরেজমিন যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় সরু রাস্তার পাশে নিয়মবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণ শুধু নগর পরিকল্পনার সমস্যা নয়, এটি অগ্নিনিরাপত্তা ও জনজীবনের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আল নাঈম মুরাদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর নির্মাণ কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলেই অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
06 October 2026

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আল নাঈম মুরাদের বিরুদ্ধে নোটিশ বানিজ্যের অভিযোগ : পুরান ঢাকায় বাড়ছে ঝুকিপূর্ন বহুতল ভবনের সংখ্যা

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন