Friday, 9 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

হেতিরে শয়তানে লারা দিছে! নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করা ঢাবির অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা

হেতিরে শয়তানে লারা দিছে!
নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করা ঢাবির অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:
নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ সেশন) একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে আর ক্লাসে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগ।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করা হয়েছে এবং সেগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।”

অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।”

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকা বলেন, “সেদিন তাসনিম সিরাজ মাহবুবের একটি কোর্সের ক্লাস ছিল। ক্লাসের শুরুতে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের বাম পাশে বসেছিলেন। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে দুইবার চোখাচোখি হয়। এরপর শিক্ষক তাকে ওই জায়গায় বসে থাকলে অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করছেন বলে জানান এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলেন।”

মল্লিকার ভাষ্য, এর আগে নিকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কিছু ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক তাকে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং কেন এভাবে পোশাক পরেছেন, তা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষক নিজের হজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং সেখানে মুখ খোলা রাখা যায় বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষক তাকে একপর্যায়ে বলেন, ‘তুমি এখানে বসে থাকলে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে, আমার আনসেফ ফিল হইতেছে। আমি চাচ্ছি যে তুমি ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসো।’ এরপর তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে যান।”

মল্লিকা আরও অভিযোগ করেন, এর আগের একটি ক্লাসেও ওই শিক্ষক তাকে এভাবে মুখ ঢেকে চললে নেকাব খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, শিক্ষক তাকে বলেছেন, তিনি জানেন না ওই শিক্ষার্থী কে। জবাবে তিনি শিক্ষককে অফিস আওয়ারে দেখা করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন এবং নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর কথাও জানান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপরও শিক্ষক তাকে প্রতিদিন শনাক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তার মতে, এটি হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো সমস্যা নয়; বরং নিকাব ও পোশাক নিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসা মণি সুমি অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে ইসলামবিরোধী বক্তব্য দেন। তার দাবি, ক্লাসে সূক্ষ্মভাবে ইসলামবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করতে দেখা যায় ওই শিক্ষককে।

সুমি বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পোশাকের বিষয়ে শিক্ষককে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করেন বলেই এভাবে পর্দা করেন। এ সময় শিক্ষক রেগে গিয়ে কোনো মাযহাব না মানার বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং ইসলাম পালনের ক্ষেত্রে হজ, নামাজ, রোজা ও যাকাতের কথা উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুমি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পোশাক নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ওই শিক্ষার্থীকে সমর্থন করছেন কেন—এমন প্রশ্ন করে শিক্ষক রেগে যান।

তার অভিযোগ, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ‘জঙ্গি’ এবং সে ‘বোমা মারতে পারে’—এমন মন্তব্যও করেন শিক্ষক। সুমি বলেন, তিনি আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের মানুষের পোশাকের ভিন্নতার উদাহরণ দিয়ে পর্দার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের কথা বলেছিলেন। কিন্তু শিক্ষক তাকে আর কথা বলার সুযোগ দেননি এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে সমর্থন করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সুমি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পোশাকের সীমা নিয়েও মন্তব্য করেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন সুমি। তার দাবি, শিক্ষক নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—এমন কথাও বলেছেন।

সুমির আরও অভিযোগ, শিক্ষক ক্লাসের বড় একটি সময় নিজের পরিবারের বিষয়ে কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরদিন জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্স পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
08 October 2026

হেতিরে শয়তানে লারা দিছে! নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করা ঢাবির অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন