বরিশালে বিআরটিয়ের মোটরযান পরিদর্শক সৌরভ সাহার দুর্নীতির পাহাড়: ঘুষ বাণিজ্য ও অঢেল সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
তাইজুল ইসলাম সবুজ:
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) বরিশাল সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সৌরভ কুমার সাহার বিরুদ্ধে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, পরীক্ষা এবং যানবাহন নিবন্ধনে একচ্ছত্র দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য লিখিত, মৌখিক ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই কর্মকর্তা দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফেল করা প্রার্থীদেরও রাতারাতি পাস করিয়ে দেওয়ার এক রমরমা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সড়কে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিআরটিএ কার্যালয়ের আশপাশে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী দালাল ও ড্রাইভার চক্র সৌরভ সাহার এই দুর্নীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁর নিজস্ব ড্রাইভার রিয়াজ খান, আলাউদ্দীন, জাকির ও আসাদুলসহ ২০-২৫ জনের একটি টিম মাঠপর্যায়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতিটি টেস্ট বোর্ডে এভাবেই অবৈধভাবে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়, যার একটি বড় অংশ সরাসরি চলে যায় ইন্সপেক্টর সৌরভের পকেটে। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি খাতা ও ফলাফলে ইচ্ছেমতো কারচুপি করেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সই নয়, সিএনজি অটোরিকশা, ট্রাক ও মোটরসাইকেল নিবন্ধনেও তাঁর দপ্তরে চলছে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য। কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই শত শত থ্রি-হুইলার ও সিএনজি অবৈধভাবে নিবন্ধন করিয়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বে তাঁর এসব অনিয়মের কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে নিজের ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন।
সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়ে বিআরটিএ-র চাকরিতে যোগদানের পর গত ১১ বছরের ব্যবধানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন সৌরভ সাহা। তাঁর ও পরিবারের নামে একাধিক ‘হাওলাদার পরিবহন’-এর বাস, বিলাসবহুল প্রাইভেট কার এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সন্ধান মিলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির অভাবে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

