রাজউকের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ইমারত নির্মান আইনের লঙ্গণ
রাজধানীর মুগদায় নির্মানাধীন মেধা কনস্ট্রাকশনের ভবন থেকে লোহার রড পড়ে পথচারী গুরুত্বর আহত
আনিসুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ মুগদা এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মেধা কনস্ট্রাকশন ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে। রাজউকের ইমারত নির্মাণ আইন ও অনুমোদিত নকশা সম্পূর্ণরুপে লঙ্ঘন করে এসব ভবন গড়ে তোলা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই অবৈধ নির্মাণযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেধা কনস্ট্রাকশন মুগদা এলাকায় এখন পর্যন্ত চল্লিশটিরও বেশি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। কিন্তু অধিকাংশ ভবনেই রাজউকের অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের কোনো মিল নেই। নির্ধারিত উচ্চতা অতিক্রম করা, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না নেওয়া এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালার তোয়াক্কা না করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের জোন-০৬ ইন্সপেক্টর আসিফসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে হাত করে এসব অনিয়ম বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, মেধা হাসেম টাওয়ার নামে দক্ষিণ মুগদা একটা ভবন আছে দশ তলা চলমান রয়েছে। ভবন নির্মানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় সম্প্রতি উপরে থেকে লোহার রড পড়ে পথচারী জাহানারা বেগম নামের এক বয়স্ক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখেই কাজ পরিচালনার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং আহত পরিবারকে নানাভাবে দমিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
রাজউকের আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক ফায়ার সেফটি ও সেটব্যাকের নিয়ম মানার কথা থাকলেও মেধা কনস্ট্রাকশনের কোনো ভবনেই তা মানা হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এই নির্মাণের ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির মতো বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। সামান্য বাতাস বা বৃষ্টিতেই ভবনের চারপাশের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদের চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত এসব ভবনে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৈধ অনুমোদন বা সঠিক প্র্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে এসব ভবনে গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে এসব অবৈধ সংযোগ বহাল রয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এহেন পরিস্থিতিতে মুগদার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল অবিলম্বে রাজউক, তিতাস গ্যাস এবং প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মেধা কনস্ট্রাকশনের সব ভবনের নকশা যাচাই, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে। দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে মেধা কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, এগুলো রাজউকের বিষয়, রা্জউক দেখবে।

