Tuesday, 29 September 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

জলমহল দখলের চেষ্টা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ইটনায় মানববন্ধন

জলমহল দখলের চেষ্টা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ইটনায় মানববন্ধন

ইটনা (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহল দখলের চেষ্টা, বৈধ ইজারাদারদের মাছ আহরণে বাধা, চাঁদা দাবি, মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জলমহলের ইজারাদার, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা জলমহল নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ইজারাদার ও মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকায় পাঁচকাহনীয়া জলমহলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। মাছ চাষ ও আহরণের জন্য সেখানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

ইজারাদার মো. ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, জলমহল ইজারা পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন তাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে জলমহল ছেড়ে দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বড়িবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন ও বিএনপি নেতা সামিউল হাসান রাব্বী অভিযোগ করেন, বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও জলমহলে জেলেদের নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইজারাদারদের লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জলমহলে থাকা একটি নৌকা ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জলমহলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।

ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর শেখ বলেন, জলমহলে পাহারারত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগ অস্বীকার আমিনুল ইসলাম রতনের তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন। তিনি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর কিংবা নৌকা ছিনতাইয়ের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো একটি অভিযোগও প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইজারাদারদের সংগঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, তিনি কোনো আইন বা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি; স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনি এ বিষয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রশাসন বলছে তদন্ত করে ব্যবস্থা ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই বৈধ ইজারাদারকে জলমহল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা জলমহলে কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, জলমহল দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবিসহ অভিযোগগুলোর বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জলমহল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
28 September 2026

জলমহল দখলের চেষ্টা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ইটনায় মানববন্ধন

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন