সাভারে সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজের বিরুদ্ধে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজের পকেট ভারী করার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার মো. রুবেল পারভেজের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং দলিল মুল্য কম দেখিয়ে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সমিতি ও কোম্পানির জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত উৎস কর আদায়ের কড়া নিয়ম থাকলেও সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দলিলে মাত্র পাঁচ শতাংশ উৎস কর দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করছেন। সরকারের নির্ধারিত এই রাজস্ব হ্রাসের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় একটি শক্তিশালী দালালচক্র পুরো কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ করছে। এই চক্রের মাধ্যমে সমিতির জমি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষের দলিল দ্রুত সম্পাদন এবং আইন বহির্ভূত বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই এই চক্রের মূল কাজ। গত জুলাই ও আগস্ট মাসেই প্রায় অর্ধশত দলিল এভাবে কম কর দেখিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।
সরকারি রাজস্ব ফাঁকির এই রমরমা বাণিজ্যের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজ অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। দালালদের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত তথ্য প্রমাণসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগকারী দাবি তুলেছেন, বিগত মাসগুলোতে রেজিস্ট্রিকৃত বিতর্কিত দলিলগুলোর প্রকৃত জমির মূল্য, প্রযোজ্য উৎস কর এবং সরকারি কোষাগারে জমাকৃত অর্থের হিসাব নিবিড়ভাবে যাচাই করলেই এই ভয়াবহ দুর্নীতির পুরো চিত্র বেরিয়ে আসবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. রুবেল পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের এমন ঘটনায় পুরো সাভারজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

