রাজধানীর মিরপুর বিআরটিয়ের কার্যালয়ে দালাল চক্রের হোতা পিচ্চি দুলালের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য
এই সিন্ডিকেটের খপ্পরে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার সেবাগ্রহীতারা
আনিসুর রহমান:
রাজধানীর মিরপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অর্থাৎ বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের চিত্র প্রতিনিয়ত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও সরকারি এই সেবাখাতে সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের অবৈধ দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। বরং আগের মতোই বহাল তবিয়তে বহাল রয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও চাঁদাবাজির রুটিন। দালাল চক্রের হোতা পিচ্চি দুলালের সিন্ডিকেটের কাছে সেবাগ্রহীতারা পদে পদে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কার্যালয়ের ১২৭ নম্বর কক্ষসহ বিভিন্ন শাখায় সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, মালিকানা পরিবর্তন, নতুন রোড পারমিট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো জরুরি সেবাগুলো সহজে পাওয়ার কোনো উপায় থাকে না সাধারণ মানুষের জন্য। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে এসব দালালদের শরণাপন্ন হতে হয় ভুক্তভোগীদের। নতুবা সাধারণ ফাইলপত্র দিনের পর দিন আটকে রাখার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
এই পুরো নেটওয়ার্কে দুলাল ওরফে খাটো দুলাল বা পিচ্চি দুলাল নামের এক ব্যক্তির নাম বারবার উঠে এসেছে। কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ লেনদেনের প্রধান হোতা হিসেবে তাঁর নাম শোনা যায়। বিআরটিএর একাধিক অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে গোপন সুসম্পর্ক রেখে এই চক্রটি রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই দালালদের নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। অভিযুক্ত দুলাল নিজেকে প্রভাবশালী স্থানীয় যুবদল নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুলালের সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় দল কখনোই নেবে না এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।
সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্য অনুসন্ধানের কাজ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে এই চক্রের। হুমকি-ধমকির পরিবেশ তৈরি করায় বিআরটিএর সাধারণ কর্মকর্তা এবং সেবাগ্রহীতাদের মাঝে স্থায়ী আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ের পরিবেশের কারণে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না, যার ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
সরকারি দপ্তরগুলোতে দালালদের এমন অবাধ রাজত্ব চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এসব অনিয়ম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বিআরটিএর কর্মকর্তা এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কমানো সম্ভব হবে না।

