Friday, 2 October 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

ফেনী বিআরটিএ‘র সহকারী প্রকৌশলী ফায়সালের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ফেনী বিআরটিএ‘র সহকারী প্রকৌশলী ফায়সালের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

 স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ফেনী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. আল ফায়সালের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি অফিসকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সেপ্রার্থীরা। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নানা উপায়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মো. আল ফায়সালের বর্তমান কর্মস্থল ফেনী হলেও এর আগে তিনি রাজধানী ঢাকার মিরপুর বিআরটিএ সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মিরপুরে কর্মরত থাকাকালীন তিনি অনৈতিক উপায়ে বিশাল অবৈধ সম্পদের ভিত্তি গড়ে তোলেন। মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় ইয়ামাহা শোরুমের পাশে তাঁর বাবার নামে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট বেতনের বাইরে এই ধরনের ব্যয়বহুল স্থাপনা ও বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বৈধতা নিয়ে সচেতন মহলে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ফেনী কার্যালয়ে পদায়ন থাকলেও মো. আল ফায়সালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কালেভদ্রে ফেনীতে অফিস করেন। এর ফলে কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ছুটির দিন বা দাপ্তরিক ভ্রমণ ছাড়া এভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেনী বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে পরীক্ষার্থীদের নানাভাবে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দালালচক্রের সহায়তা ছাড়া সরাসরি কাউন্টারে গেলে নানা জটিলতা তৈরি করা হয়, যা সাধারণ মানুষকে বাধ্য করে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে। লাইসেন্সের পাশাপাশি গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন এবং অন্যান্য নিবন্ধন কার্যক্রমেও এই দালালনির্ভরতা জেঁকে বসেছে বলে জানা গেছে।

কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কম্পিউটার অপারেটর এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি দালালদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে পর্দার আড়ালে ঘুষ ও লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে সেবা পাওয়ার পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে আস্থা কমে যাচ্ছে।

শুধু নিজের নামে নয়, মো. আল ফায়সালের স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামেও বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। কম সময়ের ব্যবধানে এই দৃশ্যমান সম্পদের বিস্তার তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব সম্পদের সঠিক উৎস খুঁজে বের করতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আয়কর নথি, এবং রেজিস্ট্রি দলিলপত্র যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জনসেবামূলক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আল ফায়সালের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া না দেওয়ায় তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেনী বিআরটিএ কার্যালয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড এবং কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা মিললে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফেনী বিআরটিএ কার্যালয়ে স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি।

 

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
01 October 2026

ফেনী বিআরটিএ‘র সহকারী প্রকৌশলী ফায়সালের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন