Monday, 2 November 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক ফারুক মালুমের বিরুদ্ধে ঢাকা ৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিবের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে সাংবাদিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ 

রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক ফারুক মালুমের বিরুদ্ধে ঢাকা ৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিবের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে সাংবাদিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ 

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক ফারুক মালুমের  হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’ গুলশান-উত্তরায় ৩৪ ফ্ল্যাট-রাজউক ট্রেড সেন্টারে ২দোকান-বিতর্কিত পদোন্নতি শিরোনাম একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এই কর্মকর্তা তার ঘনিষ্ঠ ঢাকা ৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিবের পাশে দাঁড়ানো ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখালেন এই কর্মকর্তা।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এস্টেট পরিদর্শক ফারুক হোসেন মালুমের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির পাহাড় গড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সাধারণ একজন সরকারি কর্মচারীর বেতনের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনযাত্রা এবং সম্পদের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। গুলশান ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় তার রয়েছে ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং বাণিজ্যিক দোকান। ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী গুলশানের ১ নম্বর রোডের ২১ নম্বর প্লটের ৫ নম্বর বাড়িতে একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট রয়েছে ফারুক হোসেন মালুমের। শুধু গুলশানই নয়, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরেও তার স্থাবর সম্পত্তির বড় জাল রয়েছে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িটি তার নিজের মালিকানাধীন। এছাড়া উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়িতে তার ও তার বেনামে রয়েছে চারটি বিশাল ফ্ল্যাট। একইসঙ্গে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িটির মালিকানাও তার দখলে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আবাসিক সম্পত্তির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও তার রয়েছে বিশাল আধিপত্য। খোদ রাজউকের মালিকানাধীন রাজউক ট্রেড সেন্টারে ফারুক হোসেন মালুম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক দোকান। বিশেষ করে ১৮ ও ৩৮ নম্বর দোকান দুটির মালিকানা নিয়ে রাজউকের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সাধারণ একজন পরিদর্শকের বৈধ আয়ে ঢাকা শহরের এসব অতি মূল্যবান এলাকায় এত সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজউকেরই অনেক সহকর্মী।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পেয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নেওয়া এই বিতর্কিত পদোন্নতির কারণে রাজউকের সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে রাজউকের পলাতক কর্মকর্তা শেখ শাহিনুল ইসলামের শেল্টারে থেকে ফারুক হোসেন মালুম পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময়ে রা্জউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকেল্প প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে  একেজনের প্লট আরেক জনকে, প্লটের নথি গায়েব, ফাইল জিম্ম করে, প্লট হস্তান্তরে সীমাহীন হয়রানী করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  তাদের এই সিন্ডিকেটের নানা অনিয়মের কারণে রাজউকের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো হঠাৎ বিত্তশালী হয়ে ওঠার ঘটনা সাধারণ মানুষকে অবাক করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংক্ষুব্ধ কোনো কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে, তবে এই দুর্নীতির পেছনের সব রহস্য খুব সহজেই বেরিয়ে আসবে।

এব্যাপারে এস্টেট পরিদর্শক ফারুক হোসেন মালুম বলেন, এগুলো নিয়ে অফিসে বসে কোন কথা বলব না।

এই সংবাদটি প্রকাশের পরে সাংবাদিকদের এমপি ছবি দেখিয়ে ভয় দেখান। এ সময় সাংবাদিকরা ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তিনি দপ্তরে ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। এতে রাজউকের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে নষ্ট হয়। কারণ হাজার হাজার লোকজন তার এই পালানোর দৃশ্য দেখেন এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
02 November 2026

রাজউকের এস্টেট পরিদর্শক ফারুক মালুমের বিরুদ্ধে ঢাকা ৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ হাবিবের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে সাংবাদিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ 

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন