ঘুষে অন্ধ রাজউক কর্মকর্তাদের চোখ! ইমারত নির্মান আইন মানছে না কনটেক ডেভেলপারের এমডি রাসেল
আনিসুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর রামপুরার নতুনবাগ লোহারগেট এলাকায় ইমারত নির্মাণ আইন ও নকশার তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠছে দুটি বহুতল ভবন। কনটেক ডেভেলপার অ্যান্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুল ইসলাম রাসেলের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে কুঞ্জলতা-১ ও কুঞ্জলতা-২ নামের দশ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন। অথচ রাজউকের জোনাল অফিস-৬ এর কর্মকর্তারা এই এলাকায় নিয়ম-অনিয়ম তদারকির দায়িত্ব থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজউক অনুমোদিত নকশার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে ভবন দুটির নির্মাণকাজ চলছে। ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী ভবনের চারপাশে যে পরিমাণ খালি জায়গা বা সেটব্যাক রাখার নিয়ম রয়েছে, তার ন্যূনতম বালাই রাখা হয়নি। নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে চারপাশের জায়গা দখল করে ভবন করায় ইতোমধ্যে ভবন কাঠামোটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় এবং রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র স্তূপ করে রাখায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিনিয়ত চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজউকের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত এসব নির্মাণাধীন সাইটে এসে মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের যোগসাজশেই ডেভেলপার কোম্পানিগুলো এমন অনিময়ের সুযোগ পাচ্ছে। মাঝেমধ্যে লেনদেনে বনিবনা না হলে নামমাত্র নাটকীয় অভিযান চালিয়ে বুলডোজার দিয়ে সামান্য আঘাত করা বা বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটানো হয়। পরবর্তীতে দরকষাকষির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পুনরায় মিটার ফেরত দেওয়া হয়। এভাবেই অনিয়মের সংস্কৃতি দিন দিন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের বাজেট থেকে শুরু করে নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করার জন্য রাজউক কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। প্রজেক্টের সাইজ ভেদে এই ঘুষের পরিমাণ ত্রিশ লাখ থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ ঘুষের অর্থ পুষিয়ে নিতেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো নকশা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট তৈরি করে বিক্রি করে থাকে। বাধ্যবাধকতার অজুহাতে চলতে থাকা এই অনৈতিক চর্চার কারণে প্রতিনিয়ত রাজধানীতে নকশাবহির্ভূত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাজউক কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের এই প্রবণতা রাজধানী ঢাকাকে বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতে এফআর টাওয়ার বা নিমতলীর মতো মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে রাজউকের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত রয়েছেন। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে রামপুরার এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

