এখতিয়ারবহির্ভূত পরিদর্শন, নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য: রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মিল্লাত হোসেনের বিরুদ্ধে চরম অনিয়মের অভিযোগ
আনিসুর রহমান:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ভবন নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা ইমারত পরিদর্শক মিল্লাত হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, এখতিয়ারবহির্ভূত পদক্ষেপ এবং নোটিশ ও মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে অসাধু বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মৌজার বাইরে অনধিকার প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এক অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
কর্মস্থল ও নির্ধারিত ভৌগোলিক সীমানা তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই অন্য পরিদর্শকের অধীনস্থ মৌজায় গিয়ে তদারকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানে সরেজমিনে গিয়ে ইমারত পরিদর্শক মিল্লাত হোসেন নির্মাণাধীন ভবনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিকট নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে তড়িঘড়ি যোগাযোগের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করলে কিংবা যোগাযোগে বিলম্ব হলে নোটিশ জারি ও পরবর্তী সময়ে রাজউকের মোবাইল কোর্ট এনে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করা হয়। অতি সম্প্রতি তিনি খিলগাঁও এলাকার অন্য এক পরিদর্শকের আওতাধীন ভবনে গিয়ে একইভাবে সাইট ইঞ্জিনিয়ারের হাতে নিজের নম্বর পৌঁছে দিয়ে অনৈতিক যোগাযোগের তাগিদ দিয়েছেন।
নিজ আওতাধীন এলাকাতেও একই অপকৌশলে ভবন মালিকদের জিম্মি করার অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যেকোনো নতুন ইমারত নির্মাণের কাজ শুরু হলেই তদারকির নামে হাজির হয়ে প্রথম দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। পরবর্তীতে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ভয় দেখিয়ে ভবন ভেঙে ফেলার ভয় দেখান এবং রফাদফার নামে লাখ লাখ টাকা অর্থ দাবি করেন। রাজউকের নকশা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ফাঁকা জায়গা বা সেটব্যাক না রাখা কিংবা অনুমোদনের সামান্য বিচ্যুতির দোহাই দিয়ে ভবন মালিকদের কোণঠাসা করাই তার মূল কৌশল।
আকাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেন এবং রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযানের ব্যবস্থা করেন। অভিযানকালে রাজউকের আইন অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়, কাজ সিলগালা করে দেওয়া হয় এবং ভবনের বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আসা হয়। নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নিরুপায় ভবন মালিকদের সাথে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকায় গোপন চুক্তি করা হয়। টাকা হাতে পাওয়ার পরই পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অবৈধ সুযোগ করে দেন এই কর্মকর্তা।
একজন পরিদর্শকের ক্ষমতার এমন অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কারণে রাজধানীজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত ও নকশাবহির্ভূত ভবন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কেবল অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ফলে সাধারণ আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড রাজউকের সার্বিক ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে, যা প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংস্থার উচ্চপর্যায়ের জরুরি বিভাগীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ইমারত পরিদর্শক মিল্লাত হোসেন বলেন, ভুলক্রমে গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারলাম আমার আওতাধীন এলাকা নয়, পরে ফিরে এসেছি।

