Wednesday, 30 September 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ

ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া নথি ব্যবহার করে পণ্য খালাস, ঘুষ গ্রহণ, চোরাচালানে সহযোগিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদের উৎসের অসামঞ্জস্য এবং অর্থপাচারের অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সোহেল রানা নামক এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ও দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন সোহেল রানা।

সোহেল রানার অভিযোগে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে একটি এয়ারওয়ে বিলের বিপরীতে প্রায় ৫৬ কার্টন এবং আনুমানিক ১ হাজার ৯৬২ কেজি পণ্য নিয়মিত বিল অব এন্ট্রি ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই কার্গো এলাকা থেকে বের হয়ে যায়। তাঁর দাবি, এসব পণ্যের মধ্যে মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, এলসিডি, ই-সিগারেট এবং সিগারেটের ব্যান্ডেরোল বা সরকারি রাজস্ব স্ট্যাম্প ছিল। অভিযোগে পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলা হয়েছে।

সোহেল রানা আরও অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি বন্ধ বা অকার্যকর বন্ড প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নথির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য খালাস করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিএসটিআই ছাড়পত্র ছাড়া শিশুখাদ্য, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য প্রভাব খাটিয়ে খালাসের অভিযোগও তিনি এনেছেন।

অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের দাবিও করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, নগদ লেনদেন, সম্পদ ক্রয়, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন আইনানুগভাবে পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন সোহেল রানা।

এ ছাড়া ‘গুনগুন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস সরকার মো. আবু হানিফ এবং হানিফ/শরীফ নামে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের যোগাযোগ ও যোগসাজশের অভিযোগ করা হয়েছে। ‘ক্লোজেট ক্লাউড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, আমদানি নথি, বিল অব এন্ট্রি, ঘোষিত পণ্যের মূল্য, পরিশোধিত শুল্ক এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

মো. আমিনুল ইসলামের আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সোহেল রানা। তাঁর অভিযোগ, কর্মকর্তার আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ এবং বিদেশে থাকা সম্ভাব্য অর্থ বা সম্পদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সোহেল রানার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন কাস্টমস কার্যক্রম থেকে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানোর ঘটনা থাকতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাংকিং চ্যানেল, বৈদেশিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আমিনুল ইসলাম এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের নথিও যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সোহেল রানা বিশেষভাবে বিমানবন্দর কার্গোতে কথিত ৩০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য খালাসের ঘটনার আলামত সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর আবেদনে সিসিটিভি ফুটেজ, ওয়্যারহাউস ইনভেন্টরি, কার্গো মুভমেন্ট রেকর্ড, গেট পাস, ডেলিভারি রেকর্ড, এয়ারওয়ে বিল, বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিউটি রোস্টার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা প্রশাসনিক নথি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

সোহেল রানা তাঁর আবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
29 September 2026

ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ শাখার উপকমিশনার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন