ফায়ার সার্ভিসে সহকারী পরিচালক হেলাল উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সরঞ্জাম কেনাকাটায় কোটি টাকার দুর্নীতি সহ সাংবাদিককে প্রাননাশের হুমকির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ক্রয় ও স্টোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) মো. হেলাল উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ, অতিরিক্ত মূল্য দেখানো, সরকারি অর্থের অপচয় এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, জীবনরক্ষাকারী এই প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সরঞ্জামের গুণগত মান সর্বোচ্চ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ফায়ার ফাইটারদের নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৩০ হাজার পিস গেঞ্জি কেনার ক্ষেত্রে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহ করা এসব গেঞ্জির কাপড় অত্যন্ত পাতলা ও নিম্নমানের হওয়ায় ব্যবহারের আগেই ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য সাধারণত মানসম্মত ও টেকসই পোশাক সরবরাহের প্রচলন থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।
গেঞ্জির পাশাপাশি বুটের কালি, ব্রাশ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রীর মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। এসব পণ্য ব্যবহারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিফর্মের কাপড় ও সেলাইয়ের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অল্প সময়ে সেলাই খুলে যাওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি একই পণ্য বারবার কেনার নামে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও উদ্ধার সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নতুন যন্ত্রাংশ লাগানোর অল্প সময়ের মধ্যে গাড়িতে পুনরায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বারবার একই যন্ত্রাংশ কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড বক্স, ব্যান্ডেজ, স্ট্রেচার এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে এসব সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অফিস সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ক্রয়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ক্রয় ও স্টোর শাখায় পণ্য সরবরাহের পর পণ্যের মান ও বাজারদর যাচাই না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। এসব অনিয়মের পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা।
এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো হয়রানি ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার এক প্রতিনিধি প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেখালেখি বন্ধ করার হুমকি দেন। ওই প্রতিনিধি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাত অনেক লম্বা এবং তার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ টিকতে পারেনি। এমনকি চাকরি হারানোসহ যেকোনো সময় হামলার শিকার হওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
মাঠপর্যায়ের ফায়ার ফাইটারদের দাবি, শুধু যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে সরবরাহ করা সামগ্রীর বাস্তব অবস্থা দেখতে হলে সরেজমিন পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা এবং বাজারদর যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। জীবন বাঁচানোর মতো জরুরি সরঞ্জামে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।
এব্যাপারে জনবানীর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্র্টার বশির হোসেন বাবু জানান, ফায়ার সার্ভিসের সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম সম্পর্কে জানতে সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) মো. হেলাল উদ্দিন খানের মুঠো ফোনের কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। বরং তার এক প্রতিনিধি যোগাযোগ করে বলেন, স্যারের বিরুদ্ধে লিখে লাভ নেই। তার হাত অনেক লম্বা। কারণ তার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ ভালো থাকতে পারেন নাই। আপনিও বিপদের মধ্যেই আছেন। যে কেনো সময় আপনার উপর হামলা হবে। মার খাবেন, চাকরি হারাবেন। তার চেয়ে ভালো আপনি লেখালেখি বন্ধ করুন।

