বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্তের আবেদন
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের বিআরটিসির ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম (নির্মাণ) মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। সম্প্রতি দাখিল করা অভিযোগপত্রে মনিরুজ্জামানের দীর্ঘ চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মো. মনিরুজ্জামান ১৯৯৯ সালে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিআরটিসিতে যোগ দেন। ২০০৩ সালে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং পরবর্তীতে ম্যানেজার (কারিগরি) পদে জাতীয়করণ হন। চাকরির প্রথম দিকে বিভিন্ন ডিপো ও ওয়ার্কশপে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কারিগরি দায়িত্বে আসেন তিনি।
অভিযোগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানার ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময়ে কারখানার যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে। এসব অনিয়মের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর নারায়ণগঞ্জ ও কল্যাণপুর বাস ডিপোতে দায়িত্ব পালনের সময়ও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় তার সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলোর আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি অসঙ্গতি রয়েছে। এ কারণে তার সম্পদের উৎস ও আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে ডিজিএম (ওয়ার্কস) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার প্রভাব আরও বাড়ে। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অডিট প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কল্যাণপুর বাস ডিপোর একটি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হলেও মনিরুজ্জামানের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। ফলে ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া জোয়ারসাহারা ডিপো, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং নির্মাণ বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলো যাচাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয় প্রক্রিয়া, অডিট রিপোর্ট, সম্পদের বিবরণ এবং দায়িত্ব পালনের সময়কার আর্থিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় দুদকের কাছে করা আবেদনে মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

