রাজধানীর মগবাজারে চোরাই সিএনজি বাণিজ্যের হোতা নান্টুর বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মগবাজার ও এর আশপাশে গড়ে উঠেছে চোরাই সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার এক বিশাল সিন্ডিকেট। এই অবৈধ ব্যবসার মূলে নান্টু নামের এক ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে চোরাই সিএনজির কারবার চালিয়ে তিনি এখন বিপুল সম্পদ ও বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। শুধু অবৈধ গাড়ি কেনাবেচাতেই তিনি থেমে থাকেননি, বরং অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির পেছনে ঢালছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব গুরুতর বিষয়ের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় তদন্ত প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নান্টুর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়। অতীতেও তিনি চোরাই গাড়িসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর লোকমান সরদারের সঙ্গে তার বেশ ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এই রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিজের চোরাই সিএনজির নেটওয়ার্ক অনেক দূর বিস্তৃত করেন। পুলিশ ও আদালতের নথি খতিয়ে দেখলে তার এই অপরাধের ইতিহাসের অনেক স্পষ্ট চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বর্তমানে মগবাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে এই চোরাই সিন্ডিকেটের অর্থের ব্যবহার হচ্ছে বলে তীব্র চর্চা চলছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, রমনা ও হাতিরঝিল থানা এলাকার কয়েকজন পলাতক রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে প্রায় তিন কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরি করা হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন ও দেখভালের মূল দায়িত্ব নান্টুর কাঁধেই রয়েছে। সম্প্রতি নয়টি চোরাই সিএনজি কেনাবেচা করে দেড় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যার সঙ্গেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মগবাজার চৌরাস্তা, রেইনবো সিগন্যাল, ওয়্যারলেস রেলগেট এবং স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ঘটে যাওয়া নানা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডেও এই অবৈধ টাকার ব্যবহার হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা বিশৃঙ্খলা তৈরিতে নান্টুর অর্জিত অর্থ জোগান দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। অপরাধীরা নিজেদের স্বার্থে এলাকাকে অশান্ত রাখতে এই বিপুল অর্থ ব্যবহার করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নান্টুও তার কৌশল বদলে ফেলেছেন। একসময় তিনি সাবেক সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এখন তিনি মগবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে পলাতক নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে গোপন বৈঠক করছেন। আবার অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলীয় নেতাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে নিজের চোরাই ব্যবসা নিরবচ্ছিন্ন রাখার এক চতুর কৌশল তিনি অবলম্বন করেছেন।
সামাজিকভাবে নিজেকে একজন সাধারণ ও সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি বেশ কিছু সামাজিক কাজকর্মে অংশ নিচ্ছেন। তবে তার আসল ব্যবসার রূপ এবং হঠাৎ ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পদের উৎস নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে নান্টুসহ এই চোরাই চক্রের পেছনের সকল রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

