Wednesday, 23 September 2026JK LIVE
বিজ্ঞাপন

হাইমচরের ডাকাত থেকে আওয়ামীলীগ নেতা : নেতা থেকে মেম্বার! নাসির এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক

হাইমচরের ডাকাত থেকে আওয়ামীলীগ নেতা : নেতা থেকে মেম্বার!
নাসির এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক

স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নাসির আহম্মদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, জমি দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ আশ্রয়ে তিনি এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি আত্মসাৎ, মসজিদের জমি দখল মার্কেট নির্মাণ এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়ন চালানোর মতো নানা অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, নাসির আহম্মদের পিতার নাম মুনসুর আহাম্মদ বেপারী এবং তার মূল বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার উত্তর আলগী গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালিব জমাদ্দার এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির শেল্টারে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটপাট, মামলা বাণিজ্য এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জবরদখল করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার দখলদারিত্ব ও অনিয়মের হাত থেকে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ইবাদতখানাও রক্ষা পায়নি। এলাকার মানুষের অভিযোগ, উত্তর আলগী জামে মসজিদের ছয় শতাংশ জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন এই মেম্বার। পরবর্তীতে সেখানে একটি তিনতলা বিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করে তিনি নিজে নিয়মিত ভাড়া তুলছেন। মসজিদ কমিটি এই অবৈধ দখলের প্রতিবাদে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কমিটির লোকজনকে জামায়াত-বিএনপি ট্যাগ দিয়ে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করেন এবং একপর্যায়ে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন।

শুধু ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলই নয়, সরকারি খাস জমি বরাদ্দেও তিনি চরম অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাইমচরে ভূমিহীনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত খাস জমি নিজের আত্মীয়স্বজনদের ভুমিহীন সাজিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের মতে, তিনি নিজের পরিবারের অন্তত ২৫ বিঘা জমি এ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে গাজীপুরের একটি আশ্রয়ায়ন প্রকল্পেও নিজের পরিবারের লোকজনের নামে অসদুপায় অবলম্বন করে জমি বরাদ্দ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

অবৈধ উপায়ে অর্জিত এই বিশাল অর্থের বড় একটি অংশ তিনি স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে হামিদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটি মূল্যবান জমি কিনেছেন তিনি। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, নাসির মেম্বার তার জীবনের শুরুর দিকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ডাকাতির সাথে জড়িত ছিলেন। ডাকাতি করে মানুষের সম্পদ লুটপাট করে প্রাথমিক অর্থবিত্ত অর্জনের পর, নিকটাত্মীয় মোতালিব জমাদ্দারের হাত ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে সাজানো ও চোরাই ভোটের মাধ্যমে ইউপি সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন।
গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দমনেও তিনি নেপথ্যে অর্থায়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা খরচ করে তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হেলমেট বাহিনীকে আর্থিকভাবে সহায়তা ও সংগঠিত করেন, যাতে আন্দোলনকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা যায়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তিত হলেও তার প্রভাবের খুব একটা হেরফের হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে তিনি বিএনপির এক প্রভাবশালী আত্মীয় নেতার শেল্টারে এলাকায় আগের মতো বহাল তবিয়তে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। স্থানীয়দের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে, ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই নেতার আশীর্বাদ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন তিনি। সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ ও দখলদার সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Facebook WhatsApp X Telegram
22 September 2026

হাইমচরের ডাকাত থেকে আওয়ামীলীগ নেতা : নেতা থেকে মেম্বার! নাসির এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক

বিস্তারিত কমেন্টস লিংক দেখুন